গল্পটা শেষ না হলে ঘুম আসবে কী করে?
নানিবাড়ির রাতের একটা আলাদা আয়োজন ছিল। খাওয়া শেষ, মশারি টাঙানো, বালিশ নিয়ে টানাটানি—তারপর গল্পের আবদার। নানি হয়তো বলতেন, আজ আর গল্প মনে নেই। সেই কথার পরই কোথা থেকে হাজির হতো এক টুনটুনি, এক চালাক শেয়াল, কিংবা সাত সমুদ্র পেরোনো কোনো রাজকন্যা।
একই গল্প আগেও শোনা, তবু কেউ আপত্তি করত না। বরং কোথাও একটু বদলে গেলে প্রশ্ন উঠত, গতবার তো এমন ছিল না! নানি হাসতেন। গল্পের মাঝখানে বাইরে পাতা নড়লেও মনে হতো, কোনো চরিত্র বুঝি উঠোন পেরিয়ে আসছে। ভয় পেলে সবাই আরেকটু কাছে সরে যেত।
কখন যে গল্প থেকে ঘুমে চলে যাওয়া, তা টের পাওয়া যেত না। পরদিন সকালে মনে থাকত গল্পের অর্ধেক আর কণ্ঠস্বরের পুরোটাই। অনেক বড় হয়ে বুঝতে হয়, গল্প শুধু কী ঘটেছিল তার নাম নয়; কে পাশে বসে শুনিয়েছিলেন, সেটাও গল্পের অংশ।
— অধ্যায়ের সমাপ্তি —