বিদ্যুৎ চলে গেলেই উঠোনটা ভরে উঠত
পাখাটা থেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চারদিক থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস উঠত। বইয়ের ওপর আলো পড়ছে না, গরমে বসাও যাচ্ছে না। একটু পরেই কেউ হারিকেন আনত, কেউ মোমবাতি। গরমের রাতে অনেক বাড়িতেই সবাই উঠোনে, বারান্দায় বা ছাদে এসে বসত।
বড়দের গল্পের পাশে ছোটদের আরেক জগৎ। কেউ হাতের ছায়ায় দেয়ালে পাখি বানাত, কেউ আকাশের তারা গুনতে গুনতে হিসাব হারিয়ে ফেলত। চাঁদের আলো থাকলে চোর-পুলিশের দলও তৈরি হয়ে যেত। অন্ধকারে একটু দূরের মানুষকেও রহস্যময় লাগত; পরিচিত গাছটার ছায়া হতো একেবারে অন্য রকম।
বিদ্যুৎ ফিরে এলে কারও মুখে স্বস্তি, কারও মুখে খেলা থামার আক্ষেপ। আলো নিভে থাকা যে কষ্টের ছিল, তা ভুলে যাওয়ার নয়। তবু সেই ফাঁকে পাশাপাশি বসা, হাতপাখার বাতাস ভাগ করে নেওয়া আর বিনা তাড়ায় গল্প করার সময়টুকু মনে থেকে যায়।
— অধ্যায়ের সমাপ্তি —