খাতার পাতা ছিঁড়ে যত দূরের যাত্রা
টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ বাড়তে থাকলে জানালার পাশে ভিড় জমত। উঠোনে বা গলিতে পানি জমেছে কি না, সেই খোঁজ। একটু পরেই পুরোনো খাতার পাতা নিয়ে নৌকা বানানোর আয়োজন। কারও ভাঁজ নিখুঁত, কারও নৌকা দাঁড়ানোর আগেই কাত হয়ে যায়।
পানিতে নামিয়ে দিলেই কাগজের নৌকাটা খুব জরুরি এক যাত্রায় বেরিয়ে পড়ত। হাত দিয়ে ঢেউ দেওয়া চলবে কি না, তা নিয়েও নিয়ম বানানো হতো। কোনো নৌকা আটকে গেলে কাঠি দিয়ে আলতো ঠেলা। কোনোটা ভিজে বসে গেলে হতাশা, তারপর আবার নতুন একটা পাতা খোঁজা।
দূরে যাওয়ার অর্থ তখন খুব ছোট ছিল—উঠোনের এক পাশ থেকে আরেক পাশ। তবু সেই নৌকার পেছনে চোখ রেখে মনে হতো, অচেনা কোনো দেশে চলে যাচ্ছে। বৃষ্টি থেমে গেলে ভেজা কাগজ পড়ে থাকত; পরের বৃষ্টিতে আবার যাত্রা শুরু হবে, এই বিশ্বাসটা থাকত আরও অনেকক্ষণ।
— অধ্যায়ের সমাপ্তি —