গল্পে চলে যাই
✳ আমার শৈশব
নীতিগল্প৪ মিনিট পড়া০ বার পড়া হয়েছে

সিংহ ও ছোট্ট ইঁদুর

সিংহ একদিন ছেড়ে দিয়েছিল ছোট্ট ইঁদুরকে। সেই দয়াই ফিরে এল বিপদের দিনে।

এই গল্পের শিক্ষা ↓

দুপুরের রোদে বনের চারপাশ নিস্তব্ধ। একটি বড় গাছের নিচে ঘুমাচ্ছিল সিংহ। কাছেই ছোট্ট ইঁদুর খাবার খুঁজে বেড়াচ্ছিল। ছুটোছুটি করতে গিয়ে ভুল করে সে সিংহের গায়ের ওপর উঠে পড়ল। সিংহের ঘুম ভেঙে গেল।

ইঁদুরের কাছে প্রতিটি সকালই ছিল খাবার খোঁজার ব্যস্ততা। বড় গাছের গোড়ার ছোট ফাঁক, শুকনো পাতার নিচের দানা—সেসব জায়গা তার পরিচিত। কিন্তু সেদিন ছায়ার মধ্যে সিংহের গায়ের রং আলাদা করে বুঝতে পারেনি। নিজের ভুলটি বুঝতে বুঝতেই শক্ত থাবা তার পথ বন্ধ করে দিল।

রাগে সিংহ থাবার নিচে ইঁদুরটিকে আটকে ফেলল। ইঁদুর ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে ক্ষমা চাইল। সে ইচ্ছে করে ঘুম ভাঙায়নি। সিংহ যদি তাকে ছেড়ে দেয়, কোনো একদিন সুযোগ পেলে সেও সাহায্য করবে—এমন কথাও বলে ফেলল ছোট্ট প্রাণীটি।

সিংহ হেসে উঠল। এত বড় সিংহকে এইটুকু ইঁদুর কী সাহায্য করবে! তবু তার ভয় পাওয়া মুখ দেখে সিংহের মায়া হলো। থাবা সরিয়ে দিল সে। ইঁদুর বাঁচার আনন্দে ছুটে চলে গেল, কিন্তু পাওয়া দয়ার কথা ভুলল না।

ঘটনাটি মনে করে অন্য প্রাণীরা হাসলে ইঁদুর চুপ করে থাকত। সিংহকে সাহায্য করা তার পক্ষে কীভাবে সম্ভব, সে নিজেও জানত না। কিন্তু কৃতজ্ঞতা মানে সঙ্গে সঙ্গে সমান বড় কিছু ফিরিয়ে দেওয়া নয়। সুযোগ এলে যতটুকু পারা যায়, আন্তরিকভাবে পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছাটুকু সে মনে রেখেছিল।

কয়েক দিন পরে বনের ভেতর শিকারিদের পাতা জালে আটকা পড়ল সিংহ। যত ছটফট করে, জাল তত জড়িয়ে যায়। শক্ত থাবা আর বড় দাঁত দিয়েও সে নিজেকে ছাড়াতে পারল না। তার ডাক বনের দূর পর্যন্ত শোনা গেল।

সিংহ জালের ভেতর থেকে বাইরে তাকিয়ে দেখল, গাছের ডাল, আকাশ আর পরিচিত পথ—সবই কাছে, তবু পৌঁছানো যাচ্ছে না। তখন তার বড় শরীরের গর্ব কোনো কাজে এল না। সাহায্য চাওয়াটাও যে দুর্বলতা নয়, বিপদে পড়ে সে প্রথমবার তা ভালো করে বুঝল।

ইঁদুর সেই ডাক চিনতে পারল। কাছে এসে দেখল, সিংহের শরীর দড়ির জালে বাঁধা। সে সময় নষ্ট না করে দাঁত দিয়ে দড়ি কাটতে শুরু করল। প্রথম কয়েকটি আঁশ কাটতেই বুঝল, কাজটি সহজ হবে না। কিন্তু বড় বন্ধুটির বিপদ দেখে চেষ্টা ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভাবল না।

দড়ি কাটতে কাটতে ইঁদুরেরও সময় লাগছিল। সে একসঙ্গে সব দড়িতে হাত দিল না; সবচেয়ে টানটান জায়গাটিকে বেছে নিল। সিংহকে স্থির থাকতে বলল, যাতে কাজের ফাঁক আবার জড়িয়ে না যায়। বড় প্রাণীটি ছোট বন্ধুর কথা শুনে অপেক্ষা করল। এবার শক্তি আর ছোট দাঁতের দক্ষতা একসঙ্গে কাজে লাগল।

একটি গিঁট আলগা হলো, তারপর আরেকটি। ছোট দাঁতের কাজেও যে এত পরিবর্তন আসতে পারে, সিংহ অবাক হয়ে দেখছিল। কিছুক্ষণ পর জালে বের হওয়ার মতো ফাঁক তৈরি হলো। সে সাবধানে গা সরিয়ে বাইরে এল। ইঁদুর পথ ছেড়ে পাশে দাঁড়াল; তার পরিশ্রম সার্থক হয়েছে।

মুক্ত হয়ে সিংহ ছোট বন্ধুটির দিকে তাকিয়ে রইল। যাকে সে তুচ্ছ ভেবেছিল, সেই তাকে বাঁচিয়েছে। ইঁদুর বলল, সাহায্য করার জন্য সব সময় বড় শরীর লাগে না। সেদিন থেকে সিংহ আর কাউকে শুধু আকার দেখে ছোট ভাবত না। বনে তার একটি নতুন বন্ধুও হলো।

এরপর থেকে বনের পথে দেখা হলে সিংহ একটু থামত। ইঁদুরও আর ভয় পেয়ে লুকিয়ে পড়ত না। তাদের বন্ধুত্ব অন্য প্রাণীদের মনে করিয়ে দিত, কারও উপকারের দাম শরীরের মাপ দিয়ে বিচার করা যায় না। কখন কার কোন গুণটি প্রয়োজন হবে, তা আগে থেকে কেউ জানে না।

এই গল্পের শিক্ষা

কাউকে তুচ্ছ কোরো না। প্রত্যেকেরই সাহায্য করার নিজস্ব সামর্থ্য আছে।

একটু ভেবে দেখি

তোমার ছোট কোনো সাহায্য অন্যের জন্য বড় হয়ে উঠেছিল কখন?

প্রচলিত ঈশপের নীতিগল্পের নিজস্ব বাংলা পুনর্কথন।

গল্পের পাতায় অন্তত ১০ সেকেন্ড থাকলে পড়া হিসেবে গণনা হয়। একই ব্রাউজারে ৩০ মিনিটে একবার। এই ফিচার চালুর পর থেকে হিসাব।