গল্পে চলে যাই
✳ আমার শৈশব
বাংলার উপকথা৩ মিনিট পড়া০ বার পড়া হয়েছে

টুনটুনি ও বেড়াল

ছোট্ট পাখির বাসায় বেড়ালের নজর। ছানাদের বাঁচাতে টুনটুনি কী করল?

এই গল্পের শিক্ষা ↓

বর্ষা শেষে উঠোনে তখন নরম রোদ নামে। পুকুরপাড়ের ঘাসে ফড়িং বসে, রান্নাঘরের চাল থেকে ধোঁয়া ওঠে। এই বাড়ির পেছনটায় মানুষের আনাগোনা কম। ছোট্ট টুনটুনি জায়গাটি বেছে নিয়েছিল অনেক দেখে। তার কাছে পাতায় ঢাকা ওই কোণটুকুই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে আপন ঘর।

বাড়ির পেছনের বেগুনগাছে পাতার আড়ালে বাসা বেঁধেছিল এক টুনটুনি। বাসায় তার তিনটি ছানা। তারা তখনো উড়তে শেখেনি। মা খাবার আনলে ছোট ছোট ঠোঁট বাড়িয়ে ডাকত।

খাবার খুঁজতে বের হওয়ার আগে টুনটুনি চারদিক দেখে নিত। বাসায় ফিরেই ছানাদের গুনত—এক, দুই, তিন। তারপর ঠোঁটে করে আনা ছোট পোকা ভাগ করে দিত। ছানারা মায়ের ডানার নিচে গা গুঁজে থাকত। তারা জানত না, এই নিরাপদ ঘরটিকে আগলে রাখতে মা কতবার আকাশ আর মাটির দিকে নজর রাখে।

একদিন একটি বেড়াল গাছের নিচে এসে দাঁড়াল। তার চোখ বাসার দিকে। টুনটুনি বুঝল, ছানাদের বিপদ। ভয় পেলেও সে মাথা ঠান্ডা রাখল। মিষ্টি করে বেড়ালকে রাজরানির মতো সম্মান জানাল। এমন আদর পেয়ে বেড়াল সেদিন খুশি হয়ে চলে গেল।

বেড়াল চলে গেলে টুনটুনি অনেকক্ষণ চুপ করে বসে রইল। শুধু ভয় পেলে চলবে না; ছানাদের উড়তে শেখার জন্য আরও কয়েকটা দিন দরকার। সে ঠিক করল, অকারণে ঝগড়ায় যাবে না। নিজের চেয়ে বড় প্রতিপক্ষকে হারানোর জন্য গলার জোর বাড়ানোর বদলে নিরাপদে সরে যাওয়ার সময় তৈরি করবে।

তারপর থেকে বেড়াল রোজ আসে, টুনটুনিও কৌশলে তাকে বিদায় করে। এই ফাঁকে ছানারা বড় হতে থাকে। মা তাদের ডানা মেলতে শেখায়। প্রথমে ছোট লাফ, তারপর এক ডাল থেকে আরেক ডালে ওড়া।

এক ছানা প্রথম দিন ডানা মেলেই আবার বাসায় পড়ে গেল। সে গুটিসুটি হয়ে বসে রইল। টুনটুনি তাকে তাড়া দিল না। বলল, আজ যতটুকু পেরেছ, কাল তার চেয়ে একটু বেশি পারবে। অন্য দুই ছানাও পাশে দাঁড়িয়ে ডানা ঝাপটাতে লাগল। ভয়ের মধ্যে থেকেও বাসায় ধীরে ধীরে সাহসের অনুশীলন চলল।

পরদিন সবচেয়ে কাছের ডালটিকে লক্ষ্য করা হলো। সেখানে পৌঁছাতে পেরেই ছানাদের চোখ চকচক করে উঠল। টুনটুনি এবার একটু দূরের ডাল দেখাল। এক লাফে বড় দূরত্ব পার হওয়ার দরকার নেই। ছোট ছোট সফলতা জমতে থাকলে ডানার ওপর নিজের ভরসাও বাড়ে। দূরের তালগাছটিকে এখন আর অতটা অসম্ভব মনে হচ্ছিল না।

অবশেষে ছানারা দূরের তালগাছে উড়ে গিয়ে বসল। সেদিন বেড়াল আবার এলে টুনটুনি আর ভয় পেল না। সেও ছানাদের কাছে উড়ে গেল। বেড়াল লাফিয়ে বাসা পর্যন্ত উঠল বটে, কিন্তু সেখানে আর কাউকে পেল না।

তালগাছের ডালে বসে ছানারা নিচের পুরোনো বাসার দিকে তাকাল। যে জায়গাটির বাইরে একসময় তাদের পৃথিবী ছিল না, আজ সেখান থেকে অনেক দূরে এসেছে তারা। টুনটুনি ডানা মেলে তাদের আড়াল করল। সেদিনের রোদ তাদের কাছে অন্য রকম লাগল—একটু বেশি খোলা, একটু বেশি নিশ্চিন্ত।

শরীরের জোরে পেরে ওঠেনি টুনটুনি; সময় নিয়ে, বুদ্ধি খাটিয়ে নিজের পরিবারকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছিল।

এই গল্পের শিক্ষা

বিপদে মাথা ঠান্ডা রেখে বুদ্ধি ও ধৈর্য দিয়ে পথ খুঁজতে হয়।

একটু ভেবে দেখি

টুনটুনির জায়গায় তুমি থাকলে ছানাদের কীভাবে নিরাপদে নিতে?

উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর টুনটুনির বই-এর পরিচিত গল্প অবলম্বনে সহজ পুনর্কথন। এই বিস্তৃত পুনর্কথনে নতুন দৃশ্য ও সংলাপ যোগ করা হয়েছে।

মূল গল্প: টুনটুনি আর বিড়ালের কথা ↗

গল্পের পাতায় অন্তত ১০ সেকেন্ড থাকলে পড়া হিসেবে গণনা হয়। একই ব্রাউজারে ৩০ মিনিটে একবার। এই ফিচার চালুর পর থেকে হিসাব।